আত্মহত্যা খুব ভালো
তৈমুর খান
আত্মহত্যায় ভরসা পাইনি
এক টুকরো চাঁদ কুড়িয়ে
বাড়ি ফিরেছিলাম
বাইরে তখন আঁধার দাঁড়িয়ে ছিল
আমার কাছে চাঁদের ঝিকিমিকি
লুকিয়ে রেখেছিলাম একা
বইগুলি সব এলোমেলো
খাতা-কলম ছিটকে পড়েছিল
এদিক-ওদিক ঘুরছিল সব
লেখা না-লেখারা
আত্মহত্যা বলতে কিছু চাইছিল বারবার
সে কেবল আমারই...
আমারই সে ব্যক্তিগত একটি অন্ধকার
শুনেও শুনিনি কথা
কিছুটা জ্বর, কিছুটা মাথাব্যথা
প্রলাপ বকে যাচ্ছিল সর্বদা
যদিও তা ছিল নিরুচ্চার
স্বপ্নভঙ্গের প্রস্তুতিও চোখে পড়ার মতো
যেমন ভাঙা জাহাজের ক্যাপ্টেনও
আঁতকে ওঠে
সাঁতার দিয়ে কূল পাবে না জানে
বাঁচাবে না অদৃশ্য ঈশ্বরও
হাতের কাছে হাত থাকে না
চোখের জলে ভেজা চোখে
সুদূর পানে চেয়ে
দার্শনিক কেউ হলেও হতে পারে
আমি শুধু স্তব্ধতায় নিজেকে উজাড় করে
বাজালাম অনিকেত সুরে
যেখানে কোনো পথ থাকে না
যেখানে শুধু গর্ত
ইচ্ছেগুলি গর্তে রাখি
ইচ্ছেগুলি আদিম অসতর্ক
শিক্ষা দিলে শিখবে নাকো
মানবে নাকো শর্ত
একটু তবে চিত হই
একটু উবুড় হই
চোখ বুজি অথবা চোখ খুলে রই
দেখি মৃত্যু এসে চোখ রাঙাচ্ছে
আমি কি তার কেউ হই ?
সহবাসে যাব না এখন
এখন একটু আলাদা থাকি
একা একা এই একাকে
একটি চুমু খাই
শান্ত কোমল নিরীহ এই ঠোঁটে
চুমুর পাপড়ি দেখি চেটে চেটে
শরীর একটি ব্যথার বৃক্ষ
কথামুকুল কথামুকুল
ফুটতে চাইছে শব্দে বৃন্তে
শরীর একটি সচল বৃক্ষ
মন তার গূঢ়চারী পাখি
নিঃশব্দের বাজনা বাজায়
হাসে কাঁদে গানের ঝরনা
লুকিয়ে রাখে, রাস্তা দেখায়—
রাস্তা কোথায় ?
এপারে ওপারে ছায়া
মাঝখানে শুধু হাওয়া
ঘুড়ি উড়ায়—
বাঁচা-মরার ঘুড়ি ওড়ে
উড়তে উড়তে পেরিয়ে যায় দিন
স্বপ্নে রোজ ডিঙিয়ে যাচ্ছি পাহাড়
কারও সঙ্গেই দেখা হচ্ছে না
ময়ূর নেই , ময়ূরী নেই
শুধু পেখম পরা হতাশা আমার
নাচ দেখাচ্ছে—
এ নাচ কে দেখতে চায় ?
যদিও বর্ষা আসেনি
ভরসা এসে সারাবেলা আছে অপেক্ষায়
নির্বাসন লিখতে লিখতে কত যুগ পার হয়ে গেল
বাড়ি ফিরেও মনে হল ফেরা হল নাকো
আত্মহত্যা খুব ভালো ওকে বরণ করো
বলতে বলতে আমার ছায়ায় কারা ঢুকে গেল!
আমাকে আজ ভাগ করে নিচ্ছে দেখি তারাই
দরজা বন্ধ করে আমি ভেতর ঘরে দাঁড়াই
বন্ধ দরজা—তবুও খোলা ! দেখি এমন লীলা
চলতে থাকে হিতে-বিপরীত
আয়নাতে মুখ দেখতে গিয়ে দেখি
আমার ভেতর অন্য এক আমিকে
চাঁদকে ভালবাসতে গিয়ে দেখি
চাঁদ মামারা আপনজনা নয়তো এখন কারও l
No comments:
Post a Comment