দহন
লুতফুল বারি পান্নার তিনটি কবিতা
জমাট আগুন যতটা পুষেছি বুকে—
নিভৃতে জ্বলুক। তুমিও উড়তে পারো
ছেঁড়াখোঁড়া মেঘে, দ্বিধাহীন
ধুকপুকে।
দেখেছো— কেমন
রাত্রি নেমেছে গাঢ়!
যতবার একা আসতে চেয়েছি— তুমি
দেখিয়ে দিয়েছো 'প্রবেশ নিষেধ' লেখা।
যদিও বাতাস— বয়ে
গেছে মৌসুমী।
যদিও আকাশে মিশেছে জলের রেখা।
জানি, দিগন্ত— দূরের
কথাই বলে।
জানি, সমুদ্র
আসলে ছোঁয় না কিছু।
তবু যতবার আকাশ নেমেছে জলে—
আমি ততবার নিয়েছি তোমার পিছু।
ভ্রান্ত আশারা বারবার পোড়ে ভ্রমে।
ভ্রান্ত স্বপ্ন— আগুন
চেনেনা তাও।
যতবার নামি সমুদ্র সঙ্গমে—
ঠিক ততবারই পোড়াও, পুড়িয়ে
যাও।
মুছে দিও
দুই চোখে এঁকে নিচ্ছি, শুধু
তার ভ্রু ভঙ্গিমা;
পাথর ভাঙেনি তাও। নদীও শেখেনি জলসীমা।
যে আগুন পুড়ে যায়, যে আগল
খুলে যায় নিজে;
যে পাথারে গল্পেরা ডুবে মরে একা ভিজে
ভিজে।
আগুনও আবীর হয়, বাতাস
উড়িয়ে নেয় ভুলে।
কিছু অদ্ভুত প্রীতিরোগ তুলে রাখি ভেজা
মাস্তুলে।
যে আবীরে রাঙিয়েছি আমাদের মুখ ও মুখোশ,
সাধ ও মনস্তাপ। চোখে মাখা আশা— আফসোস।
জানিতো ফুরিয়ে যাবো। তুমিওতো ভেসে যাও
জলে—
বৃক্ষটি লিখে রাখে দুর্মর স্মৃতিগুলো, ছালে–বল্কলে।
ইতিহাস ঘেটে যায় বারবার তবু এই পোড়ামাটি
ঘেঁষে;
নতুন জলের রেখা, পুরনো
সোঁতায় এসে মেশে।
লুকোনো ব্যাথার মত— এইসব
অষ্ফুট প্রিয় সংলাপে–
ধুলোচোখ। যদি পারো, মুছে
দিও আঁচলের ভাপে।
বিষাদ
সময় যখন উল্টো পথে
বাতাস যখন ফেরারি।
হাঁটতে গিয়ে খাচ্ছি হোঁচট
ভাবনা তখন, ফেরার-ই।
ফেরার কথাই উঠলো যখন—
ফিরবো এমন ভূবন কই?
কষতে গেলে বুঝতে পারি
কঠিন লাগে সব অংকই।
জীবন যখন বিবর্ণ খুব
পাইনা খুঁজে কী স্বাদ এর!
'ইচ্ছে আগুন'— নিভিয়ে দিই
সেঁধিয়ে যাই বিষাদে।
বিষাদ মানে হাল্কা ধূসর
মগজ ভরা নিকোটিন।
আলগা হাতে জড়ানো তাও
ছাড়িয়ে নেয়া— কী
কঠিন!
একাকীত্ব বাঁধবে বলে
আভা সরকার মন্ডল
জনাকয়েক কুয়াশার ফেরিওয়ালা..এবং
আর একটু এগোলেই
কিছু রোদ-খেকো নির্জনতা--
আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরতে থাকে দু'চোখের খিদে।
পা মেলে বসে থাকা ঘুঘু ডাকা অপেক্ষা
বুকের মাঝে জড়িয়ে রাখে শীতলতম কঠোরতা
বেড়ে যায় মন খারাপী আয়ূ।
শাওন-ভাদর, না চাইতেই
উপুড় করে দেয় জমানো জঞ্জাল
শুধু রুক্ষতাকে দোষারোপ করে ।
সুযোগে মেঘেরা মুক্তি আঁকে আকাশ জুড়ে
শুধু উপেক্ষা আর বিষন্নতার পছন্দ
সাতনূরী হার---
একাকীত্ব বাঁধবে বলে।

No comments:
Post a Comment