শংকর ব্রহ্মর একগুচ্ছ কবিতা--
চাঁদের সাথে কথা
--------------------
এক
ঘরে আমার কেউ ছিল না,চাঁদের সাথে তাই
এক রাত্তির ঘর করতে চেয়েছিলাম ভাই,
শুনে চাঁদ কি বলল জান?
"
ছিঃ ছিঃ লজ্জ্বায় মরে যাই।"
চাঁদ মরলে এই পৃথিবীর কি হবে ভেবে তাই
মনের দুঃখে চাঁদের কথা নিজেই ভুলে যাই,
কাউকে জানি চাঁদের সাথে তুলনা করি নাই
নিজের কথা ভেবেই আমি,একলা ঘুমাই।
দুই.
এইমাত্র কথা হল চাঁদের সহিত কথা হল ফোনে
সে কথা আমি জানাই শোন তোমাদের মতো সুজনে,
সে নাকি আজ রাতে আসবে আমার বাড়িতে,
হ্যাঁ,আসবে আমাদের বাড়ি,
এই না শুনে প্রতিবেশী মুখ-পোড়াদের
মুখটা হল হাড়ি।
কেন রে ভাই,হাড়ির মধ্যে ধরবি
নাকি চাঁদ?
সন্দেহ হয়, লাগছে
যে ভয় -
ধরলে পরে জীবনটা ওর করবে যে বরবাদ,
চাঁদকে আবার ফোন করে তাই মিথ্যেকথা বলি
আমি থাকব না যে বাড়ি,
আজকে তাই আসাটা সুজন দিয়ো কিন্তু বাদ।
২
অবক্ষয়
-----------
ভালবাসা যখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে অবসাদে
নাও হে নির্দয় অবক্ষয়,
নিয়ে নাও প্রাণীদের জীবনীশক্তি -
ফুলেদের কর বিবর্ণ ও গন্ধহীন।
হাসিটাই যখন এত হাস্যকর,জীবনটাও তাই,
যখন উদ্ভব হয় তার সে নিজেই হয় সংহারক
জীবন যেন জীবের কাছে তখন তুচ্ছ হয়ে যায়
আর ভালবাসা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অবসাদে।
৩
বায়না
-----------------
১
দূরে দূরে থাকি বলে কাছে যাওয়া হয় না
কাছে গেলে ডাকি তারে প্রিয় সুরে ময়না,
দূরে দূরে থাকা তার মোটেও যে সয় না
মনে মনে ডাকে সে 'কাছে চলে আয় না।'
ডাকলেই কাছে তার চলে যাওয়া যায় না
ছড়িয়েছে যেই ব্যাধি দেশে দেশে চায়না,
কাছে দূরে ওৎ পেতে আছে যত হায়না
তাহাদের দেখা বুঝি যমরাজ পায় না?
২
এমন কি আছে কেউ,ভালবাসা চায় না?
অনেকেই চায় জানি,সকলে তা পায় না।
ভালবাসা কেড়ে নিতে,ছুটে আসে হায়না,
কিছুতেই তবু যে তা কেড়ে নেওয়া যায় না
খুন করা যায় প্রেম কেড়ে নেওয়া যায় না,
আগে ভাগে করে তা দাও সকলেই বায়না।
ভাগ যোগ করে প্রেম দেয়া নেয়া যায় না
ভালবাসা ঠিকঠাক মেপে নেওয়া যায় না
আবার তা কখনোই মেপে দেওয়া যায় না,
বল তবে সবে আজ,কে কে দেবে বায়না?
৩
হিমযুগ
------------------
তোমার সাথে দেখা হলেই,এ'জীবন মধুময়,
প্রতিটি মুহূর্তই যেন প্রাণবন্ত,উচ্ছল সময়
অর্থহীন কথাও যেন সঙ্গীতের মূর্ছনা ,
প্রতিটি কটাক্ষই যেন নীরব ঝরণা
তোমার হাসি যেন বাঁধ ভাঙা জ্যোৎস্না
তুমি খুব কাছে এলে,নেমে আসে সুদূর
নীলিমা
তোমার হাসি যেন শ্বেতশুভ্র শিশিরের কণা।
তুমি কাছে না থাকা মানে যে কি,তা হৃদয়ের জানা।
তুমি যখন যাও ছেড়ে,ভরা শস্যখেত যেন খাঁ
খাঁ মরুভূমি হয়ে হাসে
সূর্য নিভে গিয়ে যেন পৃথিবীতে হিমযুগ নেমে
আসে।
৪
উদ্ভাস
---------------------
ঊষা তো ধুয়েছে মুখ শিশিরের জলে
ফুল হয়ে ফুটে আছে 'কুয়াশা ঢাকা' শীতের সকালে
তবু কিছুটা সিঁদুরগুড়ো লেগে আছে আকাশের
গালে
হেমন্ত হয়েছে কাৎ হেলানো মাস্তুলে
পাখিদের কিচির মিচির শুনে নদীটিও উঠেছে
জেগে,
এখনও বোঝেনি সব কিছু ,তুমি তার পাশে গিয়ে
বসো
ফাঁদ তো দেখেছ চাঁদু এবার তবে ঘুঘু দেখবে এসো।
বিষণ্ণতা ম্লান মুখে রযেছে দাঁড়িয়ে
রেলিংয়ের ধার ঘেসে,
বাইরে চা বিকেচ্ছে যে রাজ-পুরোহিত এসে
মস্করা করার জন্য চলো তাকে ডাকি
নাকি সুরে কাঁদার জন্য বায়না দিয়ে রাখি।
৫
হিমশৈল
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সহজ হও আরও সহজ হও শুনে শুনে
একেবারে জলের মতো সহজ হয়ে গেছি
যে পাত্রে রাখবে দেখ তার আকার নেব।
যদি আরও বেশী সহজ হতে বল
দেখ তবে পাত্র ছেড়ে আমি
বাস্প হয়ে বাইরে উড়ে যাব
তারপর কোথায় হারাব
তুমি আর পাবে না খুঁজেও
তারপর একদিন ঠিক
কঠিন এক হিমশৈল হয়ে

No comments:
Post a Comment