লাভজেহাদ
মিত্রাণী আদক
ছেলেটির স্কুল ব্যাগে নির্বিষ সহাবস্থানে ছিল
জ্যামিতি বক্স আর
টিফিন বক্স
প্রথমটায় সুঁচালো
কম্পাসের নীচে
ভাঁজ করা কাগজে
যে মেয়েটির নামে
প্রেমপত্র লেখা,
পরিপাটি টিফিন
গুছিয়ে দেওয়া মায়ের
তার নামটুকুও জানা
ছিল না।
তবু জ্যামিতি
বক্সে একটুকরো প্রেম
আর টিফিনবক্সে
একপেট ক্ষিদের কোন দ্বন্দ্ব কোনদিনই কেউ দেখে নি।
ছেলেটির নাম
নিশান্ত, মেয়েটির নাম পারভীন।
মেয়েটি কলেজ
করিডোরে হাঁটতে হাঁটতে
অনভ্যস্ত হাতে
ওড়নাস্পর্শ সামলাতো,
ছেলেটি কলেজ
ক্যান্টিন চালানোর ফাঁকে
সে দৃশ্যটুকু চুরি
করে চোখে ভরে নিত।
ওড়নার বিধিবদ্ধ
শালীনতার সাথে
চশমার অশালীন প্রগলভতা
কোনদিনই কারো নজরে
পড়েনি।
ওরা কথা বলতো।
বোবা মেয়ের
শব্দহীন ভালোবাসা গান জানত
শুধু ক্যাম্পাসের
কৃষ্ণচূড়া।
ওরা স্বপ্ন দেখত।
দুঃসাহসী ছেলেটির
ঘর বাঁধার স্বপ্ন জানত
ওর কলম আর কবিতার
খাতা।
নৈঃশব্দ্য আর
কল্পনার মধ্যে অসহযোগিতার লেশমাত্র ছিলনা।
তারপরেও কিন্তু..
লাশকাটা ঘরে বিষ
খেয়ে মরা মেয়েটির মৃতদেহে
যেমন ধর্মের
সীলমোহর ছিলনা,
তেমনি গণপিটুনিতে
মৃত ছেলটির শরীরের ক্ষতচিহ্নেও
ভগবান বা আল্লাহের
কোন অবদান ছিল না,
একই অস্ত্রে
শবচ্ছেদ করা ডোম একা শেষরাত্রে নেশাড়ু চোখে দেখেছিল,
আকাশ ভেঙ্গে
বৃষ্টির ঘনঘটা।
পোস্টমর্টেম
রিপোর্টে না কারো জাত লেখা ছিল, না ছিল ধর্ম,
বেআব্রু লাশদুটোর
বাম পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে বাঁধা সুতোয় ছিল
শুধু দুটি
সংখ্যা...
আর লাভজেহাদের
হিসাবের খাতায়

No comments:
Post a Comment