আলমগীর সরকার লিটনের একগুচ্ছ কবিতা--
// কুয়াশার উঠান //
কুয়াশা জড়ানো একটা চাদর হারিয়ে গেছে-
কোন শীত উষ্ণ বুকে! যত বার শীত আছে-
তত বার খুঁজতে থাকি- ভরা শীত পূর্ণিমায়
কিংবা অমাবস্যার রাত; অথচ
তারা অন্যকিছু
ভেবেই চললো- সোজাপথে এতটুকু হাঁটল না-
কত বাহানা মনে ধরেই রাখলো- তাহলে কোথায়
হারানো চাদর- খুঁজব কোথায়- উঠানে খড়
পুড়ানো
কুয়াশায় কাঁপানো সকালটা আর খোঁজে পাই না।
খুঁজতে খুঁজতে কোথায় জানি এসে ধাক্কা লাগল
পাঁজর জুড়ে- হালকা পাঁজর ব্যথায় চিনচিন
করে উঠলো-
তবুও একদিন খৃুঁজে নিবে কুয়াশা ভেজা চাদর
সেদিন আকাশে চাঁদ থাকবে না-
তারা থাকবে না শুধু চারপাশ দেখবে কুয়াশা
ভরা উঠান।
০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ নভেম্বর ২০
// চল দুপাত্তি খেলাই //
আমি হাত বান্ধিলাম নগর দুলাই
চাঁদ রাখিলাম দীঘলকালো ঝলমল ভালাই-
সূর্যের আলো দেহ কালো- অঙ্গার হলো
মন প্রাণ-চল ফিরি সাদা মেঘে দুপাত্তি
খেলাই
এই ভরা অগ্রহায়ণে চল দুপাত্তি খেলাই;
হাত ছুটে না- পাও ছুটে না- দুই বেলা
রঙিন ছবি উঠান জুড়ে আঁকা -
তার মাঝে বসত করে উড়ে বেড়ায় ঘাসফড়িং-
সোনালি দিনের চিল তবুও হ্যাঁচকা টানে
মৃত্তিকা ঘ্রাণে-
চোখের ভাঁজে মন বান্ধিল-এক চুমটি
মেঘলাদিনে-
চল ফিরি সাদা মেঘে - দুপাত্তি খেলাই-
এক পশলা বৃষ্টির নাত্তয়াই।
০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০
//এখনকার দিনগুলো বড় অসহায়//
কোন চঞ্চলতা নেই- নেই কোন দুরন্তপনার
একজেদি বিকালের খেলাধুলার মাঠ!
সবই জানি বয়সের কাছে হারমানা দিন;
অনুভবের দিনগুলোর ইচ্ছাডানার উড়েযেতে চায়
নীলাকাশে কিংবা সবুজ চিনাজানা গাঁয়ের
মেঠোপথ কিন্তু কোথায় জানি অবরুদ্ধ করে
রেছে
খুলা জানালা দক্ষিণা দ্বারে ফিরে যেতে চাই
অথচ সময়ের তানবাহানা বড় দুষ্টুমির খেলা
অতঃপর একলা হয়ে যাচ্ছে কিছু দিনগুলো
//আজও বিবর্তন ভাবে পরে আছে//
শিশির শাল পরা শীতের সকাল-
কিংবা সন্ধ্যার বিষন্নতা- বিকেলটুকু
হারিয়ে গেছে কিছু অনুরাগী ভাষায়!
যাহা গোলাপের ঘ্রাণ ছাড়েনি,বরং আগুন;
ধানসিঁধ চাতাল-রাস্তার ধুলি তেমনি আছে
পা ভিজানো দূর্বাঘাস মরে গেছে কেনো না
আগের মতো করে কেউ স্পর্শ করে না-
মেঠোপথের ধুলো কিংবা গাঁয়ের রশ্মি আলো;
অথচ আঁধার এখানে শিশির শাল জড়ানো ব্যথা।
//হিংসা অহংকার //
হিংসা অহংকার যেনো অমূল্য সম্পদ
ঐ যে পরে থাকা ইটের উপর কি না
প্রয়োগ করলো- ফুল ফুটার আগে
হিংসার অনলে পুড়ে অঙ্গার করলো প্রণয়
বাগান!
আর এখন অহংকারে আকাশের তারা
খসে ফেলছে প্রতিদিন- এতটুকু হুস হয় না-
এ অমূল্য সম্পদ চিরস্থাীয় নয় শুধু একখন্ড
মাটির ধুলি মাত্র-
তারপরও বিঘা কে বিঘা চাষ করেই যাচ্ছে হিংসা অহংকার
অথচ পাপ বুঝার পরোও নতুনত্ব হিংসা অহংকার
ভূত বানাচ্ছো!
অতঃপর এভাবেই চরিত্রের রীতিনীতিতে পুণ্যের
সান নেই-
চৌদপুরুষের অমূল্য সম্পদ যেনো হিংসা
অহংকার।
এক্টু শীতের উষ্ণতা

No comments:
Post a Comment