বিকাশ
ভট্টাচার্যের
গুচ্ছ কবিতা
___________________________
১. গর্ভলজ্জা
কোথা থেকে আসছে
কাতরকণ্ঠ
শব্দনাভি এমন
সকরুণ
খুঁজতে খুঁজতে
বিশাল একটা মাঠ
পাঁচিলঘেরা।
দুপুরে নিজঝুম
মাঠের কোণে একটা
পোড়োঘর
দরজা জানলা
ভাঙা। পাল্লাহীন
ঘরের ভেতর
কচিপাতাটির মতো
একটি শরীর
ফ্যাকাসে সংজ্ঞাহীন
যৌনবিকার! হায়
রে গর্ভলজ্জা
ভ্রষ্টপুরুষ।
তোর হোক শরশয্যা
_______
২. পটিয়সী
কী সুন্দর কথা
বলো
কী নিখুঁত।
নিক্তি দিয়ে মাপা
কী দারুণ
অগ্নিহোত্রী রূপ তোমার
কী বিনয়ী। কী
শিক্ষানবিসিপনা
প্রেমের ফল্গু
তবু বয়ে যায়
হৃদয়ের একূল
ওকূল শূন্য বালুচর
ঘরের ভেতরে এক
আবছায়া ঘর
অথচ কী রেওয়াজী
কণ্ঠ তোমার
কী জলোর্মি খেলে
যায় দৃষ্টি সরোবরে
যে-বিষাদ ঝরে
পড়ে হলুদ পাতার মতো
কিংবা ভাসানের
ফুলে
কী দারুণ
দক্ষতায় জল ছেঁকে তুলে রাখো
বারোয়ারি
জঞ্জালে
_____________
কবিতা ২. অলখলিপি
দু'চোখের জমাট মেঘ থেকে
শান্তিবারি
অফুরান ঝরে
কপাল ফুঁড়ে গেছে
তীক্ষ্ম গজাল
বিষযন্ত্রণা
জীবন লটকে আছে
কাটাঘুড়ির মতন
ক্রুশকাঠে
মগডালে মগডালে
সিলিং-এ
পৃথিবীর মাটিতে
আজও তাই
অনাবিষ্কৃত রক্তপুরাণ
রক্ত কি ঝরে না
কোনো রঙিন আলোর
করুণ পাড়ায় !
এবং যখন গুমরে
মরো ভালোবাসায়____
'ভালোবাসি' এই কথাটাই
লিখতে থাকো
অগোচরে
অকাতরে
চোখের পাতায়
__________
কবিতা ৩. স্কুলবাড়ি
ওই তো
স্কুলবাড়ি। দেয়াল বেয়ে উঠেছে রোদ্দুর
ওই তো সোনামুখ।
কাননে কুসুমকলি ফুটলো
ওই তো এলানো
ছায়া ভিজে ঘাসে শয্যার দাগ
এই তো আমিও একা
অধোমুখে বসেছি পাশে
তুমি কি দেখনি
কিছু দিনে রাতে ওঠাপড়াও ?
মুঠোমুঠো
বিশ্বাস পলিপ্যাকে ফেলে কারা রাখে?
অগণন মৃতভ্রূণ।
ওরই মাঝে খেলে পথশিশু
শৈশব আমারও ছিল।'নবজাতক' আমারও পড়া
ভেঙেছে
বার্লিনের দেয়াল।নড়েছে চিনের প্রাচীর
ধসেছে মিথের
সৌধ।বাঁধ ভেঙে ছুটেছে নদী
নিজের মোড়ক খুলে
দ্যাখো কতটা ধুলোমলিন
বাঁধাফ্রেমে
আটকে পড়া শৈশব কুসুমকালিন
____________
কবিতা ৫. স্বেচ্ছামৃত্যু
তোমার
কেশবিন্যাসের কয়েকটা আলোফুল
ঝরে পড়েছিল। এবং
সেটা দেখে
নিশিগন্ধা বনের
কথা মনে পড়ে যায়। অথচ
সেদিন কারও
একবারও চোখে পড়েনি
অন্ধকারে কয়েকটা
জোনাকির অপমৃত্যু
নিরালোক বুকের
ভেতরে তখন বন্দিশিবির
চোখের পর্দা যেন
বিচ্ছিরিরকম পুড়ে গেছে
স্মৃতিরা হাতড়ে
চলে ভ্যাপসা গন্ধেভরা
কালোয়াতি গুদামের ভেতর
কয়েকটা আলোপোকাই
তখন খুলে দিয়েছিল
স্বেচ্ছামৃত্যুর
টানে স্বপ্নসদর
একবিন্দু
দীপালোক জ্বেলে
জোনাকিরা খ'সে পড়েছিল বিমূর্ত আঁধারে
___________
কবিতা ৪. স্কুলবাড়ি
ওই তো
স্কুলবাড়ি। দেয়াল বেয়ে উঠেছে রোদ্দুর
ওই তো সোনামুখ।
কাননে কুসুমকলি ফুটলো
ওই তো এলানো
ছায়া ভিজে ঘাসে শয্যার দাগ
এই তো আমিও একা
অধোমুখে বসেছি পাশে
তুমি কি দেখনি
কিছু দিনে রাতে ওঠাপড়াও ?
মুঠোমুঠো
বিশ্বাস পলিপ্যাকে ফেলে কারা রাখে?
অগণন মৃতভ্রূণ।
ওরই মাঝে খেলে পথশিশু
শৈশব আমারও ছিল।'নবজাতক' আমারও পড়া
ভেঙেছে
বার্লিনের দেয়াল।নড়েছে চিনের প্রাচীর
ধসেছে মিথের
সৌধ।বাঁধ ভেঙে ছুটেছে নদী
নিজের মোড়ক খুলে
দ্যাখো কতটা ধুলোমলিন
বাঁধাফ্রেমে
আটকে পড়া শৈশব কুসুমকালিন
____________
কবিতা ৩. সবকিছুর পূর্বাভাস হয় না
।। বিকাশ ভট্টাচার্য
বুকের ভেতরে
একটা অন্তরঙ্গ ছবি
যেটা পড়ে আছে
যোজন যোজন দূরে
একটা নিবিড়তম
মুহূর্তের ফ্রেম থেকে
এর বেশি এখন আর
কিছু বোঝা যাবে না
সবকিছুর
পূর্বাভাস হয় না
একটা দীর্ঘ ঝড়ের
রাতে যেভাবে মেহগনি
গাছের ডাল ভেঙে
ভেঙে পড়ে
শিস দিয়ে ওঠে
অন্ধকার
একটা ডবল বেড
খাটও যেভাবে
প্রশস্ত হয়
সন্নিবিষ্ট ঘুমে
এইসব ছিন্নভিন্ন
অসহায় চিত্রগুলোই তো
স্তব্ধ ভোরের
মতো গোঙাবে
এর চেয়ে বেশি
কোনো প্রকৃতি প্রত্যয়
ফ্রেম খুলে
পাওয়া যাবে না
____________
দোয়েল
কুহুগানে মেতে
ওঠা পাতাদের অডিও ক্যাসেট
শুনতে শুনতে চলে
গেছি
আবহমান পাখিদের
স্রোতের দিকে
গোপন হাতের খেলা
অনেক দেখেছি বলে
মানুষের
সান্নিধ্যে আমি গাছেদের
অলৌকিক গল্প করে
যাই
গুচ্ছ কবিতা ।। বিকাশ ভট্টাচার্য
কবিতা ৫. নখদর্পণ
হাতের চেটোয়
আঁকি সসাগরা পৃথিবী
নখের ডগায় থাক
প্যারিস লণ্ডন
ফ্রেমবন্দি করে
রাখি বাকিংহাম প্যালেস
নৈশভোজ, ভ্যাটিকানের কান্নাপ্রহর
প্যাণ্ডেমিক
জনপদে স্বচ্ছ ভারতের
সংযমী শূন্য
বসত।
ঘোলা জলে মাছ
ধরার অবিমিশ্র সুখ
হে ঈশ্বর।
তাকিয়ে দেখুন
_________