সান্ত্বনা চ্যাটার্জীর তিনটি কবিতা
প্রদীপের নীচে
নীল কালো ঘন আকাশের বুকে
কালপুরুষের তারারা
হীরার মতন
অহংকারে জ্বলে ।
কিসের এতো অহংকার !
যেখানে কাঁটা তারে ঘেরে
মাটির কন্যা ,পাশবিক লালসায়
দণ্ডে দণ্ডে পলে।
প্রকৃতি পুরুষ একই সূত্রে বাঁধা
মানবের পূজ্য সংসারে।
নীচ অতি ঘৃণ্য ধর্ষক
পুরুষের আলো ঢাকে ,
পুতি গন্ধ ময় নরকের অন্ধকারে ।
দূরে জ্বলে প্রদীপের আলো।
তারার মালার মতো,
দীপাবলীর আগমনে
শক্তির আরাধনায়।
ধিক যতো পুরুষ আছো
নির্বিকারে আলোক সাজাও
দীপাবলীর সন্ধ্যায় নির্লজ্জ
ঔদ্ধত্যে!
মা আসবে ফিরে আকাশ ভরা তারায়
যদি সর্বদা তাঁর মেয়েকে বাঁচাও।
আমি ফিরে দেখব না
আমি ফিরে দেখব না,
কারা পথে বিছিয়েছিল বিদ্রূপের
কাঁকর।
ছাড়িয়ে ছিল হাত নির্দয় অবহেলায়।
আমি মনে রাখবোনা সে সব মুখ,
আনন্দে উজ্জ্বল হাতে হাতে ধরে
ছোটো পরিবার,
একা ফেলে রাখে উৎসমুখ, জীবনের সন্ধ্যা বেলায় ।
আমি স্মৃতি ঘাঁটবনা এ্যালবামের
পাতায় পাতায়,
কবে কারা জুড়ে ছিল আমার অন্তর,
আজ যদি না থাকে মিল মানসিকতায়।
আমি ফিরে শুনব না কোনও মিঠে স্বর
জড়িয়ে ছিল রাত্র দিন ভ’রে ভালোবাসায় ।
যে বাঁধন ছিঁড়ে যায় অসহনীয়
আত্মম্ভরিতায়।
আমি হারাতে চাইনা অহংকার
বাড়াতে চাইনা হাত স্নেহের দীনতায়।
যেতে দেব অন্তর ছেড়ে যারা যেতে
চায়।।
হৃদসাগরের ঢেউ
ছিলাম দূরে দুই নগরে হৃদ সাগরের
ঢেউ
মনোবীণার তারে তারে সুরের ঐকতান;
হঠাৎ সে তার ছিঁড়ল কোন পাষাণ ,
এক এক করে ভাঙ্গছে স্নেহ আকাশচারী
কেউ।
দেয়না সাড়া হৃদয় আমার চাতক পাখির
ডাকে,
শুকনো ডাঙায় আছাড় খেল যখন,
ভেঙে গেলো ভালোবাসার মন।
তলিয়ে গেল কোন অতলে অদৃশ্য এক
ফাঁকে ।।
এক নগরে দুই নাগরিক রাস্তা গেল
চলে,
বললনা মন আচ্ছা আসি আবার হবে দেখা,
যদিবা হয় হবে না তা একটি সরল রেখা;
উদাস হৃদয় ডুবল যেন সূর্য অস্তাচলে ।।
No comments:
Post a Comment